ভোলার লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. আবু মাহমুদ তালহা সাদীর বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, কর্মস্থলে অনিয়মিত উপস্থিতি, সরকারি গাড়ির ব্যক্তিগত ব্যবহার এবং সরকারি বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে অনিয়ম সহ একদিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে ।
এ ছাড়া হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও চিকিৎসাসেবার মান নিয়েও অসন্তোষ জানিয়েছেন রোগী ও সজনরা।
নাজিম নামের এক প্রত্যক্ষদর্শীর অভিযোগ করে বলেন, ইউএইচএফপিও ডা. আবু মাহমুদ তালহা সাদী নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। সকাল ১০ টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২ টা এই অল্প সময় অফিসে অবস্থান করে চলে যান। সরকারি বরাদ্দের আবাসিক কোয়ার্টারে না থেকে অন্য উপজেলায় অবস্থান করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদনকের হাতে বেশ-কিছু তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।
এ ছাড়া ইউএইচএফপিওর ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর স্ত্রী চিকিৎসক লাভনী আক্তার তিমুও ওই গাড়ি ব্যবহার করে বেসরকারি হাসপাতালে যাতায়াত করতে দেখা গেছ। অফিস চলাকালে ব্যক্তিগত কাজে সময় ব্যয় এবং অধস্তন কর্মচারীদের দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে মাদক গ্রহণের অভিযোগও করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এক কর্মচারী ।
অন্যদিকে, হামের টিকাদান কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ করা দেড় লাখ টাকা ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসকের অভিযোগ, ওই অর্থের বিপরীতে মাইকিং ছাড়া অন্য কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম তাঁর নজরে আসেনি। তবে বরাদ্দের অর্থ কোন কোন খাতে ব্যয় হয়েছে, তা জানতে সংশ্লিষ্ট হিসাবপত্র, বিল-ভাউচার ও কার্যক্রম বাস্তবায়নের নথি যাচাই তথ্য চাইলে হাসপাতালে কর্তৃপক্ষ দেখাতে সক্ষম হয়নি।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ইউএইচএফপিওর কক্ষে গিয়ে তাঁকে নিজ চেয়ারে বসা অবস্থায় দেখতে পান বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্পিকার তাঁর সামনের চেয়ারে বসে কথা বলেন। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে—এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, শৌচাগার ও আশপাশের পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তার নিয়মিত উপস্থিতি এবং সার্বিক চিকিৎসাসেবার মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে ভোগান্তি হচ্ছে।
লালমোহন উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষের সরকারি চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ফলে চিকিৎসকদের উপস্থিতি, সরকারি গাড়ির ব্যবহার, বরাদ্দের অর্থ ব্যয় এবং হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু মাহমুদ তালহা সাদী বলেন, আমার সম্পর্কে যে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে ভোলা জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ মুহাঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম আমি নোট করে রাখলাম অতিদ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছি।