ইয়াবা এখন আর শুধু একটি মাদক নয়, এটি ধীরে ধীরে সমাজকে গ্রাস করা এক ভয়ংকর মরণব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এই বিষাক্ত নেশা আজ ছাত্র, শিক্ষক, কিশোর, যুবক, যুবতী, নারী, পুরুষ—এমনকি বয়স্কদের মাঝেও উদ্বেগজনকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিদিন অসংখ্য পরিবার এই অভিশাপের নির্মম শিকার হচ্ছে।
বাস্তবতা হলো, ইয়াবার কারণে বহু পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। কত বাবা-মায়ের আদরের সন্তান বিপথে চলে গেছে, কত বোনের সুখের সংসার ভেঙে পড়েছে, কত মেধাবী তরুণের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে হারিয়ে গেছে—তার সঠিক হিসাব হয়তো কারও কাছেই নেই।
রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—শুধু খুচরা বিক্রেতা বা ছোটখাটো বাহকদের গ্রেপ্তার করলেই কি এই মহামারী বন্ধ হবে? প্রকৃত মাদক সম্রাট, অর্থদাতা ও মূল ডিলাররা যদি আইনের কঠোর আওতার বাইরে থেকে যায়, তাহলে এই অপশক্তিকে কখনোই নির্মূল করা সম্ভব নয়।
দুঃখজনকভাবে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে যারা মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়, তারা জামিনে বেরিয়ে আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এতে সাধারণ মানুষের মনে ধারণা তৈরি হয়েছে যে, শাস্তির ভয় নয়, বরং এটি যেন অপরাধীদের জন্য নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সুযোগে পরিণত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে কার্যকর তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং মূল হোতাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাই—এখনও সময় আছে। এই রাষ্ট্রকে, এই দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এবং অসংখ্য পরিবারকে রক্ষা করতে হলে মাদকের মূল নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে হবে। শুধু বাহক নয়, মূল ডিলার, গডফাদার এবং তাদের অর্থের উৎস চিহ্নিত করে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; এটি আমাদের সবার। পরিবার, সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন—সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। "সবার আগে বাংলাদেশ"—এই স্লোগান শুধু মুখে উচ্চারণ করলেই হবে না, হৃদয়ে ধারণ করে বাস্তবে তা প্রমাণ করতে হবে।
আসুন, আমরা সবাই মিলে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলি। কারণ একটি মাদকমুক্ত বাংলাদেশই পারে নিরাপদ, সুস্থ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে।