নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকায় গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে পরিচিতি পাওয়া যুবদল নেতা শরিফ মিয়া কে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ মানুষের দাবি, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও আপত্তিকর মন্তব্য ছড়িয়ে তাঁর সম্মানহানির চেষ্টা করছে।
শরিফ মিযা পক্ষে এলাকা মানুষের কথা , বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক দুঃসময়ে দলের পাশে থাকার পর বর্তমানে দলের সুসময়ে একটি পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাঁকে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করার পাশাপাশি মাদক কারবার, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন।
তবে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘোড়াশাল পৌর এলাকার খালিশকারটেকের
বাসিন্দা শরিফ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দলের কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। একই সঙ্গে এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে স্থানীয়ভাবে তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়েছে।
কাউন্টার এলাকার ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বললে জানা যায় যে শরীফ কখনো কাউকে ডিস্টাব কিংবা চাঁদা দাবি করে আসছে এমন কোন কথা কোন ব্যবসায়ের কাছ থেকে জানা যায়নি এক ব্যবসায়ী বলেন দীর্ঘদিন ধরে শরিফ ভাইয়ের সাথে আমাদের পরিচিত কখনো জোর করে একটি চা খাওয়াতে পারিনি উনাকে উনি আমাদের সাথে কেউ অন্যায় করলে রুখে দাঁড়াতো বিপদে সব সময় পাশে ছিল। বিগত সরকারের সময় উনার উপরে অনেক অন্যায় অত্যাচার হয়েছে কিছু লোক হিংসান্নিত হয়ে উনার পিছনে অপপ্রচার চালাচ্ছে উনার বিরুদ্ধে দোকান থেকে চাঁদা নেওয়া যে অভিযোগ তুলেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা আমরা এখানকার ব্যবসায়িক আমরা জানি।
শরিফ মিযার ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে তিনি হামলা, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হন। একপর্যায়ে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয় এবং তাঁর ডান হাত কেটে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় পরিবারের আর্থিক সহায়তায় দীর্ঘ চিকিৎসার পর প্রাণে বেঁচে ফিরলেও একটি হাত হারাতে হয় তাঁকে। জীবনের এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাস রেখে দলের কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন বলে জানান তিনি।
তাঁর অভিযোগ, অতীতের সেই ত্যাগ ও প্রতিকূলতার কথা বিবেচনা না করে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু আইডি থেকে তাঁকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক বিরোধ ও ব্যক্তিগত স্বার্থ কাজ করছে বলে মনে করেন তিনি।
মানবিক কর্মকাণ্ডের কারণে পরিচিতির দাবি
ঘোড়াশাল এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে আলাপকালে শরিফ মিয়ার মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ উঠে আসে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনে তিনি সহযোগিতার করেছেন করার চেষ্টা করেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগ এবং অপপ্রচারের দাবি নিয়ে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
শরিফ মিয়ার দাবি, স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর পরিচিতি ও জনসম্পৃক্ততা দেখে একটি পক্ষ ঈর্ষান্বিত হয়ে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল এবং সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে। এ কাজে বিভিন্ন মহলকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শরিফ মিয়ার বক্তব্য
নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শরিফ উদ্দিন বলেন, “দলের জন্য আমার জীবনটা দিতেও রাজি আছি। যখন রাজপথে অনেকে ছিলেন না, তখন দলের হাল ধরেছি। বিশ্বাস করেছি, বিধাতা জীবন দিয়েছেন—কিছু একটা করব। এমনভাবে মরতে চাই, যাতে আমার মৃত্যুতে মানুষ কাঁদে।”
তিনি আরও বলেন, “মনেপ্রাণে দলকে ভালোবেসে দুঃসময়ে জীবন বাজি রেখে দলের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। আওয়ামী লীগের আমলে হামলা, নির্যাতন ও জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। একপর্যায়ে আমার ডান হাতটি হারাতে হয়েছে। এত কিছুর পরও দলের প্রতি ভালোবাসা ও আদর্শ থেকে সরে যাইনি।”
শরিফ উদ্দিনের অভিযোগ, দলের দুঃসময়ে ত্যাগ স্বীকার করার পরও বর্তমানে একটি মহল তাঁর মানসম্মান ক্ষুণ্ন করে তাঁকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।
প্রথমত এ পরিস্থিতিতে তিনি আল্লাহর কাছে বিচার প্রার্থনা করেন এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের সুদৃষ্টি কামনা করেন।