এইচ এম হাছনাইন, তজুমদ্দিন প্রতিনিধি।
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা উপজেলার ২নং সোনাপুর ইউনিয়নে নিবন্ধিত জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত বিশেষ ভিজিএফ (VGF) কর্মসূচির চাল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রিজন মেম্বার ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে । চাল না পেয়ে ক্ষুব্ধ জেলেরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছেন।
রোববার (৭ জুন ২০২৬) উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন কার্ডধারী জেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর মৌখিক অভিযোগ করেন। অভিযোগে তারা দাবি করেন, সোনাপুর ইউনিয়নের প্রায় ৩০০ জন নিবন্ধিত জেলের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চাল বিতরণ না করে তা বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী জেলেদের অভিযোগ, চাল সংগ্রহের জন্য জেলে কার্ডের ফটোকপি জমা দেওয়ার পরও তারা কোনো খাদ্য সহায়তা পাননি। এমনকি কারও কারও জমা দেওয়া কাগজপত্র ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন উপকূলীয় এলাকার অসংখ্য জেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেঘনা নদীতে ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে জারি করা সরকারি নিষেধাজ্ঞার সময় নিবন্ধিত জেলেদের খাদ্য সহায়তা হিসেবে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে সোনাপুর ইউনিয়নে সেই চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী জেলে রাশেদ অভিযোগ করে বলেন, “মাস্টাররোলে জেলেদের অজান্তেই ভুয়া টিপসই ও স্বাক্ষর দেখিয়ে চাল উত্তোলন করা হয়েছে। অথচ প্রকৃত জেলেরা চাল পায়নি।”
অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত ও নিবন্ধিত অনেক জেলের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আত্মীয়-স্বজন এবং আর্থিকভাবে স্বচ্ছল লোকজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
চরাঞ্চলের কয়েকজন জেলে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার আমাদের জন্য যে চাল পাঠিয়েছে, তা জনপ্রতিনিধিদের একটি অংশ আত্মসাৎ করেছে। আমরা দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও কোনো সহায়তা পাইনি।”
অভিযোগে আরও বলা হয়, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের এক ইউপি সদস্য জেলেদের কার্ড সংগ্রহ করে তার পরিচিত ও দলীয় লোকজনের মধ্যে চাল বিতরণ করেছেন। পরে যোগাযোগ এড়াতে মোবাইল ফোন বন্ধ রাখেন বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
আরেক জেলে জানান, চরাঞ্চল থেকে খবর দিয়ে ডেকে আনার পরও দুই-তিন দিন ঘুরিয়ে রাখা হয়। তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও গুদামে চাল আসার পর তাকে জানানো হয় বরাদ্দ শেষ হয়ে গেছে। অথচ তিনি এক কেজি চালও পাননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোনাপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রিজন মেম্বার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “প্রায় পাঁচ হাজার জেলের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে। এত বড় কার্যক্রমে কিছু জেলে বাদ পড়তে পারে। তবে কোনো ধরনের অনিয়মের বিষয়ে আমি অবগত নই। মাস্টাররোল অনুযায়ী স্বচ্ছতার সঙ্গে চাল বিতরণ করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমির হোসেন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বনি আমিন বলেন, “জেলেদের চাল আত্মসাতের বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় জেলেদের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বঞ্চিত জেলেদের প্রাপ্য খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা হোক।