‘সম্পত্তির জন্য মাকে রাস্তায় ফেলে রেখে ঘরে তাল দিলেন সন্তান’ এমন শিরোনামে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এনপিবি'তে সংবাদ প্রকাশিত হয়। উপরোক্ত শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সেই বৃদ্ধা মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিয়ে নিজ ঘরে আশ্রয় দেন মেজো ছেলে লিটন।
জানা যায়, আজ থেকে দশ/বারো বছর আগে স্ত্রী রাবেয়া বেগম ও চার ছেলে সন্তান রেখে মারা যান স্বামী গজনবী। স্বামীর মৃত্যুর পর ছেলেদের সংসারে থাকতেন ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা রাবেয়া বেগম। হঠাৎ করে কাউকে না জানিয়ে ছোট দুই ছেলে রাফি ও সুরুজ্জামান মায়ের কাছ থেকে তার অংশে সম্পত্তি লিখে নেন। পরে বড় দুই ভাই লিটন ও আওলিয়া বিষয়টি যেনে গেলে মা ও ভাইদের সাথে শুরু হয় বাক-বিতণ্ডা। সংসারে নিয়মিত ভাবে চলতে থাকে ঝগড়া বিবাদ। এক পর্যায়ে ১৫ দিন করে মায়ের লালনপালনের দায়িত্ব ভাগ করে নেন সন্তানরা। এরিমধ্যে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোর রাতে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা হেমনগর-গোপালপুর সড়কের পাশে নিজ বাসার সামনে মা রাবেয়া বেগমকে রাস্তার ফেলে রেখে ঘরে তালা দিয়ে চলে যান ছোট ছেলে নুরুজ্জামান। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ভাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় হয় রাস্তায় ফেলে যাওয়া সেই দুঃখিনী মা রাবেয়া বেগমের।
এবিষয়ে লিটন বলেন- ঘটনার দিন আমি ব্যবসায়িক কাজে বাহিরে ছিলাম। দীর্ঘ পাঁচ বছর আমি আমার মাকে ভরণ পোষণ করেছি। তারপর থেকে ১৫ দিন করে চার ভাই মিলে ভরণ পোষণ করে আসছি। রোববার থেকে ছোট ভাই সুরুজ্জামানে কাছে ১৫ দিন থাকার কথা ছিল। এসময় সুরুজ্জামান তার ঘরে থাকা-খাওয়ার সমস্যা দেখিয়ে মাকে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। ঘটনার দিন আমি কাজ থেকে বাড়িতে এসে শুনতে পাই মাকে রাস্তায় রেখে সুরুজ্জামান ঘরে তালা দিয়ে চলে গেছে এবং মা আমাদের মামার বাড়িতে রয়েছে। পরে বুধবার সকালে আমি সেখানে থেকে মাকে আমার কাছে নিয়ে আসি। এখন থেকে মায়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমি নিয়েছি এবং মা যতদিন জীবিত থাকবে আমিই তার ভরণপোষণ করবো।