কুমিল্লার বুড়িচং পৌরসভার আওতাধীন হরিপুর গ্রামে তিন ফসলি জমি জোরপূর্বক দখলের অপচেষ্টার প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় নিরীহ কৃষক ও সাধারণ জনগণ। “কৃষকের ফসলী জমি রক্ষা করো, করতে হবে” স্লোগানকে সামনে রেখে বুড়িচং পলিটেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের নামে কৃষি জমি দখলের চক্রান্তের বিরুদ্ধে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা অভিযোগ করে জানান, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মোঃ নজরুল ইসলাম, সাবেক মেম্বার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, আনোয়ার হোসেন, মনিরুল ইসলাম (সর্ব সাং হরিপুর) এবং রবিউল আলম (যদুপুর) সহ স্থানীয় একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দের চক্র সরকারকে ভুল বুঝিয়ে ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে হরিপুর এতিমখানার পূর্ব পাশে এবং ঈদগাহের উত্তর পাশে নিরীহ কৃষকদের রেকর্ডীয় তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণের নামে দখলের চরম পাঁয়তারা করছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, এই চক্রান্তকারীদের দাপট ও ভয়ে যদুপুর, হরিপুর এমনকি বুড়িচং পূর্বপাড়ার সাধারণ মানুষ মুখ খুলে কিছু বলতে পারে না। কোনো প্রতিবাদ করলেই বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়, যার ফলে অত্র এলাকার মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
বক্তারা আরও জানান, বুড়িচং পৌরসভার আওতাধীন হরিপুর গ্রামের এই জমিগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য প্রতি শতাংশে প্রায় ২০ লাখ টাকা। অথচ চক্রান্তকারীরা সরকারি মূল্য চক্রান্ত করে মাত্র ২৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করে কৃষকদের বাধ্য করে জমি কেড়ে নিতে চাইছে। তিন ফসলি এই জমিগুলো হারিয়ে ফেললে এলাকার শতাধিক পরিবার একবারে নিঃস্ব হয়ে পথে বসবে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মোহাম্মদ ইউনুছ মিয়া, কৃষক হারুন মিয়া, মোহাম্মদ আবু তাহের, আবুল হাসেম, রিয়াজউদ্দিন এবং গৃহিণী জোসনা বেগম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভূক্তভোগী জমির মালিক আলমগীর হোসেন, ফরিদ উদ্দিন, বাচ্চু মিয়া, আবদুল মজিদ, লিয়াকত আলী, জাহাঙ্গীর আলম, ইদ্রিস মিয়া, ময়নাল হোসেন, আলী আকবর, সামছুমিয়া, আলাউদ্দিন, আব্দুর রব, আবুল কাশেম, ইমরান হোসেন, মোঃ জুয়েল, মোঃ ইউনুস, আব্দুল খালেক, আবুল হোসেন এবং বিল্লাল হোসেন সহ হরিপুর গ্রামের সর্বস্তরের জনগণ।
ভূক্তভোগী কৃষকরা আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, "আমরা প্রতি বছর এই জমিতে তিনটি ফসল ফলাই। এই জমি আমাদের জীবন-জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। আমাদের জমি আমরা কোনো অবস্থাতেই বিক্রি করব না। বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের বিনীত আকুল আবেদন—আমাদের এই ফসলি জমিগুলোকে এই চক্রান্তকারী চক্রের হাত থেকে অবমুক্ত করা হোক। আর তা না করা হলে, জমিতে আমাদের জীবন্ত কবরে চিরনিদ্রায় পাঠিয়ে দিন, তাও জমি দেব না।"
এলাকাবাসীর জোর দাবী, অবিলম্বে বুড়িচং পলিটেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের নামে ফসলি জমি দখলের এই অপচেষ্টা বন্ধ করে চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরীহ কৃষকদের কৃষিজমি রক্ষার সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।