স্টাফ রিপোর্টার:
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার শ্যামসিদ্ধি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুর রহিম ও তার সাবেক স্ত্রী ইয়াসমিনের দাম্পত্য জীবনের বিরোধকে কেন্দ্র করে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে।
আব্দুর রহিম জানান, তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ইয়াসমিনের আগেও একটি সংসার ছিল, যেখানে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী ছিলেন। পরবর্তীতে আগের স্বামীকে তালাক দিয়ে তিনি আব্দুর রহিমকে বিয়ে করেন। কয়েক বছর আগে ঢাকায় বসবাসকালে পারিবারিক বিরোধের জেরে তার স্ত্রী তার বিরুদ্ধে মামলা করেন, যার কারণে তাকে প্রায় ১৮ দিন কারাভোগ করতে হয়। এরপরও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তিনি সংসার চালিয়ে যান। ঝুট কাপড়ের ব্যবসা করে কিছু অর্থ সঞ্চয় করেছিলেন। সেই অর্থ দিয়ে গ্রামে জমি ক্রয় করে বাড়ি করার পরিকল্পনা করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জমি ক্রয় করে বাড়ি নির্মাণের জন্য তিনি সব সঞ্চয় স্ত্রীর কাছে তুলে দেন এবং ইয়াসমিন নিজের নামে তিন শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরে জমি ও সম্পত্তির বিষয়ে প্রশ্ন তুললে দাম্পত্য কলহ বাড়তে থাকে। শ্রীনগর ইউনিয়নের মথুরাপাড়া এলাকার সামছুল হক নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে তিনি সন্দেহ করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পারিবারিক বিরোধ আরও তীব্র হয়। পরে তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ ও আদালতে মামলা করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, সামসুল হকের নির্দেশে স্ত্রীর দেয়া একতফা তালাক কার্যকর হওয়ার পূর্বেই স্থানীয় কয়েকজন যুবককে সঙ্গে নিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। সম্প্রতি গরু বিক্রির টাকা নিতে গেলে সামছুল হকের সঙ্গে তার বাকবিতন্ডা হয় এবং তিনি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন বলে অভিযোগ করেন। বর্তমানে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানান।
অভিযোগের বিষয়ে সামছুল হক বলেন, রহিমের পারিবারিক বিষয় নিয়ে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করেছি। পরে আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় অপপ্রচার করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে থাপ্পড় দিয়েছি। তালাকের পর স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে আমিই বলেছি।
অন্যদিকে ইয়াসমিন বলেন, আমার স্বামী আমাকে প্রায়ই মারধর করতেন এবং আমি দীর্ঘদিন মানসিক চাপে ছিলাম। সংসার টিকিয়ে রাখতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছি। আর্থিক সংকট মোকাবিলায় কিস্তিতে ঋণ নিয়েছি, বাড়ি বন্ধক রেখে গরু পালন করেছি। সন্তানদের পড়াশোনা ও সংসারের খরচ চালাতে গিয়ে ঋণের বোঝা বেড়ে যায়। কোরবানির আগে গরু বিক্রি করে সেই ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করেছি। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে তালাক দিয়েছি। বর্তমানে তার সঙ্গে আমার বৈবাহিক সম্পর্ক নেই।