ঢাকাFriday , 30 October 2026
  1. @লিড
  2. *খুলনা বিভাগ
  3. *ঢাকা বিভাগ
  4. অপরাধ
  5. অর্থনীতি
  6. আইন-আদালত
  7. আজকের-সর্বশেষ
  8. আন্তর্জাতিক
  9. কলাম
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খেলাধুলা
  12. গণমাধ্যম
  13. চট্টগ্রাম বিভাগ
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয়
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পঙ্গু সন্তানের চিকিৎসার সহায়তার জন্য অসহায় বাবার আকুতি !  সকলের সহায়তায় ডান পা পচন ধরা আশরাফুল বাঁচতে চায় 

Link Copied!

৮
লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি:

১৮ বছরের তরুণ মো. আশরাফুল। সংসারে অভাব, যার জন্য খুব বেশি পড়ালেখা করা হয়নি। তাই অল্প বয়সেই শুরু করেছিলেন জীবিকার সংগ্রাম। স্বপ্ন ছিল নিজের উপার্জনে বাবার সঙ্গে অভাবের সংসারে হাল ধরবেন, গড়বেন সুন্দর ভবিষ্যৎ। তবে তা আর হয়ে ওঠেনি। এখন নিজেই পরিবারের কাছে বোঝা হয়ে ওঠেছেন আশরাফুল। কয়েক মাস আগে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার ডান পা। তবে দারিদ্র্যের নির্মম কশাঘাতে নূন্যতম চিকিৎসাটুকুও মিলছে না আশরাফুলের। যার ফলে তার পায়ের ক্ষতস্থানে এখন পচন ধরেছে। এমন পরিস্থিতিতে অসহ্য যন্ত্রণায় দিন কাটছে আশরাফুল। তিনি ভোলার লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের স্লুইচগেট এলাকার বেড়িবাঁধের বাসিন্দা মো. বশিরের ছেলে। অন্যের জমিতে চাষাবাদ করে কোনোরকমে সংসার চালান এই দরিদ্র কৃষক মো. বশির। নিজের কোনো জমিজমা না থাকায় পরিবার নিয়ে বেড়িবাঁধ সংলগ্ন খাসজমিতে বাস করেন তিনি।

আশরাফুল জানান, কয়েক মাস আগে লালমোহন বাজার থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। এ সময় পৌরশহরের ডাকবাংলো পুলের পশ্চিম পাশে ভাঙা সড়কে মোটরসাইকেলটি ধীরগতিতে চলছিল। তবে পেছন থেকে দ্রুতগতির পাথরবোঝাই একটি ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে মোটরসাইকেল চালক সড়কের পাশে ছিটকে পড়লেও আশরাফুল পড়ে যান ট্রাকের নিচে। ট্রাকের চাকা তার ডান পায়ের ওপর দিয়ে চলে যায়। চালক তাকে মৃত ভেবেই ট্রাক নিয়ে পালিয়ে যান। ওই ট্রাকটি হাসপাতাল রোডের জুলফিকার মিয়ার। তবে দুর্ঘটনার পর চিকিৎসার জন্য ওই ট্রাকের মালিকের কাছ থেকে কোনো সহায়তা মেলেনি। এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। পরে তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা ডান পা কেটে ফেলার পরামর্শ দেন। এরপর তাকে পঙ্গু হাসপাতালেও নেওয়া হয়। সেখানেও একই পরামর্শ দেওয়া হয়।

আশরাফুলের বাবা মো. বশির বলেন, ছেলের চিকিৎসার জন্য ধারদেনা করে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ করেছি। চিকিৎসকরা পা কেটে ফেলার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এত টাকা জোগাড় করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। যার জন্য টাকার অভাবে ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে আসি। এরপর এক আত্মীয়ের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী উপজেলার এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি ছেলের ক্ষতিগ্রস্ত পায়ের পাতার অংশ কেটে ফেলেন। এরপর ওই চিকিৎসক বলেছিলেন, চিকিৎসা করালে বাকি অংশ ঠিক হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, আমি গরিব মানুষ, কোনো জমিজমা নেই। বেড়িবাঁধের পাশে খাসজমিতে থাকি। এখন ছেলের চিকিৎসা করানোর মতো টাকা এবং নিয়মিত ড্রেসিং করানোর সামর্থ্যও নেই। রাতে ব্যথায় ছেলে যখন চিৎকার করে, তখন নিজেরও অনেক কষ্ট হয়। চিকিৎসার জন্য আরও অন্তত পাঁচ লাখ টাকা প্রয়োজন। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, দেশের বিত্তবান ও হৃদয়বান এবং প্রবাসীদের কাছে আর্থিক সহযোগিতা কামনা করছি। আমার ছেলের চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে চাইলে ০১৩৫০৪৯২০৪৩ (বিকাশ ব্যক্তিগত) এই নম্বরে যোগাযোগের অনুরোধ করছি।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুদ বলেন, চিকিৎসা সহায়তার জন্য ওই পরিবারের পক্ষ থেকে ইউএনওর কাছে আবেদন করলে কিছুটা আর্থিক সহায়তা পাবেন। এ ছাড়া আশরাফুলের পায়ের অংশ কেটে ফেলায় তিনি প্রতিবন্ধী ভাতাও পাবেন। আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্র ও ভাতা প্রদানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।