এইচ এম হাছনাইন বিশেষ প্রতিনিধিঃ

১৫ মে ২০২৬, শুক্রবার এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম দেশের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি, লাগামহীন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, জনজীবনের চরম দুর্ভোগ এবং স্বাস্থ্যখাতে ভয়াবহ সংকট সাধারণ মানুষের জীবনকে অসহনীয় করে তুলেছে। জনগণ আজ নিরাপত্তাহীনতা, অর্থনৈতিক চাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সংসার পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছে। সরকারের বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। ফলে জনগণের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে।

পীরসাহেব চরমোনাই আরও বলেন, দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে শত শত শিশুর মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও উদ্বেগজনক। একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রে এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। তিনি অভিযোগ করেন, জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবেলায় সরকারের কার্যকর প্রস্তুতি ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের ঘাটতি স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। শিশুদের জীবন রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যেসব অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, তার অনেকগুলো বাতিল করা হয়েছে। এতে জনগণের মধ্যে হতাশা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের মানুষ একটি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রত্যাশা করে। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন এখনও দৃশ্যমান নয়।

পীরসাহেব চরমোনাই বলেন, “জুলাইয়ের গণআন্দোলনের অন্যতম প্রধান প্রত্যাশা ছিল জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং স্বৈরতন্ত্রের স্থায়ী বিলোপ ঘটানো। জনগণ একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রত্যাশা করেছিল। সেই প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করতে হবে।”

তিনি অবিলম্বে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যখাতকে শক্তিশালীকরণ, জনগণের নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।