এইচ এম হাছনাইন, বিশেষ প্রতিনিধি

দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ। সংগঠনটি পল্লবীতে শিশু রামিসাকে নির্মমভাবে হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

বুধবার (২০ মে ২০২৬) বিকাল ৪টায় রাজধানীতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংগঠনের কেন্দ্রীয় মজলিসে আমেলার মাসিক বৈঠকে এ দাবি জানান সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদ।

সভাপতি মুনতাসির আহমাদ বলেন, “দেশ আজ ভয়াবহ নিরাপত্তাহীনতার জনপদে পরিণত হয়েছে। একের পর এক শিশু ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও নির্মম হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করছে যে রাষ্ট্র নারী ও শিশুদের জীবন রক্ষায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ। রামিসা শুধু একটি নাম নয়; বিচারহীনতার এই রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রতিনিয়ত হারিয়ে যাওয়া অসংখ্য নিষ্পাপ শিশুর প্রতীক।”

তিনি আরও বলেন, “ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন এখন মহামারির রূপ নিয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের উদাসীনতা, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া ও দুর্বল বিচার ব্যবস্থার কারণে অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ফলে অপরাধচক্র আরও বেপরোয়া ও সংঘবদ্ধ হয়ে উঠছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রে রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা, মামলা ধামাচাপা, প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ এবং দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ভুক্তভোগী পরিবার বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতিই অপরাধীদের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় বক্তারা বলেন, সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, মাদক ও অশ্লীলতার বিস্তার এবং ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধের অবনতির কারণে অপরাধ প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। তাই শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ গঠনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

কেন্দ্রীয় সভাপতি অবিলম্বে শিশু রামিসাসহ সংঘটিত সকল নারী ও শিশু ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদ-এর সঞ্চালনায় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হোসাইন ইবনে সরোয়ার ও ইমরান হোসাইন নূর, জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল ফয়জুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ইবরাহীম খলীল, প্রশিক্ষণ সম্পাদক আশিকুল ইসলাম, তথ্য-গবেষণা ও প্রযুক্তি সম্পাদক কামরুল ইসলাম, প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক মাইমুন ইসলাম মিঠুন, দফতর ও যোগাযোগ সম্পাদক আহমাদ শাফী, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক ইউসুফ পিয়াস, দক্ষতা উন্নয়ন ও বিতর্ক সম্পাদক উবায়দুল্লাহ মাহমুদ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মনজু, প্রকাশনা সম্পাদক শেখ মুহাম্মাদ মাহদী ইমাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক ইব্রাহীম নাসরুল্লাহ, কারিগরি শিক্ষা সম্পাদক মুহাম্মাদ খাইরুল কবির, অর্থ ও কল্যাণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ শোভন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক সাঈদ আবরার, স্কুল ও কলেজ সম্পাদক আব্দুর রহমান, কওমি মাদরাসা সম্পাদক বি এম মাহদী আল হাসান, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিক এবং কার্যনির্বাহী সদস্য সোহরাব হোসেন ফজলে ও গাজী ফাহিমুল ইসলাম।