বোরহানউদ্দিন প্রতিনিধি :: ভোলার বোরহানউদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মই যেন নিয়মে পরিনত হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বেল্লাল সিএল থাকলেও সেখানেো হাজিরা খাতায় জালিয়াতির মাধ্যমে স্বাক্ষর দেয়া অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। প্রধান শিক্ষকসহ অফিসের কর্তাদের সহযোগীতায় এসব অনিয়ম হলেও এরিয়ে যাচ্ছেন উর্ধতন কর্মকর্তারা। পাঠদান সঠিক ভাবে না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিন পরিদর্শন এবং অভিযোগে জানাযায়,বোরহানউদ্দিন পৌর ১নং ওয়ার্ড গঙ্গাচরন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো: বেল্লাল হোসেন দীর্যদিন ধরেই অনিয়ম করে যাচ্ছেন এই বিদ্যালয়ে। ৮জুলাই সরেজমিনে পৌর ১নং ওয়ার্ড গঙ্গাচরন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে দেখা যায় মো: বেল্লাল হোসেন বিদ্যালয়ে নেই। তিনি দীর্য দিন ধরেই অনুপস্তিত। অথচ এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিপিকা রানী দাস ঐ শিক্ষকের অন্যায়কে ধামাচাপা দেয়ার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নেন। বেল্লাল হোসেন এর ছুটি নেয়া সিএল লেখার স্থানে ওভার রাইটিং করে স্বাক্ষর দেয়া দেখা যায় হাজিরা খাতায়। এবিষয়ে প্রধান শিক্ষক লিপিকা রানী দাস বলেন,ঐ দিন একটু দেরি করে আসাতে সিএল লেখা ছিলো। যে কারনে পরে আসায় স্বাক্ষর দিয়েছেন। অথচ অনুপস্থিত ৫ জুলাই থেকে ৭ জুলাই তারিখ এসে একসাথে স্বাক্ষর দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু এটাই নয়,ঐ শিক্ষক প্রধান শিক্ষককে ম্যানেজ করেই অনিয়ম করছে। এখানে উপজেলার কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে অনিয়ম করে যাচ্ছে। যে কারনে তার বিরুদ্ধে কিছুই হচ্ছে না। এছাড়া মো: বেল্লাল হোসেন এর নামে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা রয়েছে। পারুল বেগম বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ রয়েছে এই মামলার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন মো: বেল্লাল হোসেন। মামলায় মো: বেল্লাল হোসেন ১নাম্বার আসামী। মামলায় বেল্লাল হোসেন এর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানী এবং হত্যার হুমকি প্রদানের অভিযোগ আনা হয়।
এবিষয় বিদ্যালয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মো: বেল্লাল হোসেনকে পাওয়া না গেলেও তার মুঠোফোনে কথা বলার চেস্টা করলে তিনি সাংবাদিক সুনেই ফোনের লাইন কেটে দেন। এর পরে ফোন দিলে তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।
এবিষয়ে পৌর ১নং ওয়ার্ড গঙ্গাচরন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিপিকা রানী দাস অনিয়ম সম্পর্কে বলেন,আমি ঐ সময় বিদ্যালয়ে ছিলাম না। তা ছাড়া বেল্লাল হোসেন আমার কাছ থেকে কোন ছুটি নেয়নি। তিনদিনের একটা ছুটি বের করে দেখিয়ে বলেন,এই ৩দিনের ছুটির কাগজ রয়েছে। অথচ দীর্যদিন ছুটি নেয়ার ব্যাপারে কোন ছুটির কাগজ দেখাতে পারেনি। কিংবা সিএল এর উপর স্বাক্ষর দেয়ার বিষয় ভালো কোন উত্তর দিতে পারেনি।
অপরদিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: মেহেদী মাসুদ বলেন, মো: বেল্লাল হোসেন এর ছুটির নেয়ার কোন প্রমান দেখাতে পারেনি। কিংবা দীর্য দিন অনুপস্থিত থাকার কোন ব্যাখা দিতে পারেনি। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে ব্যাবস্থা নেয়ার কথা। তবে সিএল এর স্থলে স্বাক্ষর দেয়ার বিষয় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,এটা তিনি খুব অন্যায় কাজ করেছেন।
এদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম ঘটনার বিষয় তাৎখনিক ফোন দিয়ে খোজ খবর নিয়ে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি বলেন,সিএল লেখার স্থলে স্বাক্ষর দিয়ে অন্যায় করেছেন। এছাড়া তার নামে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা থাকলে সেটা জানাবে। তবে তদন্ত করে দ্রুত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা ব্যক্ত করেন।