অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মসজিদের আইপিএস (IPS) কম দামে বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে অভিনব প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে একটি প্রতারক চক্র। এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে গোপালগঞ্জের মো. মনিরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্র সামনে এসেছে। মসজিদের নাম ভাঙিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছ থেকে এভাবে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
​সর্বশেষ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আজ বুধবার দুপুর ২টার দিকে এক ভুক্তভোগীর সঙ্গে এই চক্রটি একই কায়দায় প্রতারণা করেছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, মসজিদের আইপিএস বিক্রির কথা বলে মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ-এর মাধ্যমে ১,০০০ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক মনিরুল ইসলাম। টাকা পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গেই সে তার মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয় এবং নম্বর ব্ল্যাকলিস্টে ফেলে সমস্ত যোগাযোগ চিরতরে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
​যেভাবে চলে এই প্রতারণা:
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতারক মনিরুল ইসলাম মানুষের আস্থা অর্জনের জন্য নিখুঁতভাবে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে। সে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), নিজস্ব ছবি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক বা ধর্মীয় ব্যানার-পোস্টারের ছবি টার্গেট করা লোকজনকে পাঠিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে। মসজিদ বা মাদ্রাসার পুরোনো আইপিএস পানির দরে বিক্রির লোভ দেখিয়ে সে অগ্রিম টাকা হাতিয়ে নেয় এবং টাকা পাওয়ার পরপরই গা ঢাকা দেয়।
​অভিযুক্তের পরিচয় ও স্থায়ী ঠিকানা:
​নাম: মো. মনিরুল ইসলাম
​পিতা: মো. খলিলুর রহমান শেখ
​মাতা: মোছা. সবজান খাতুন
​ঠিকানা: গ্রাম: ভাট্রাই ধোপা, ডাকঘর: মাজড়া – ৮১৩০, কাশিয়ানি, গোপালগঞ্জ।
​একাধিক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুকৌশলে এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষকে এ ধরনের অনলাইন প্রতারক চক্র থেকে মারাত্মকভাবে সতর্ক থাকার এবং কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়া অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অবিলম্বে এই প্রতারক মনিরুল ইসলামকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।