ঢাকাSaturday , 4 July 2026
  1. @লিড
  2. *খুলনা বিভাগ
  3. *ঢাকা বিভাগ
  4. অপরাধ
  5. অর্থনীতি
  6. আইন-আদালত
  7. আজকের-সর্বশেষ
  8. আন্তর্জাতিক
  9. কলাম
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খেলাধুলা
  12. গণমাধ্যম
  13. চট্টগ্রাম বিভাগ
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয়
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মাদকবিরোধী সভায় হামলার ঘটনায় পৃথক তিন মামলা, মাদক সম্রাট জনি ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতারের দাবী!

Link Copied!

২০৮

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার হিরণের খিলগাঁও এলাকায় একটি মাদকবিরোধী সভায় হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানা ও আদালতে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলা গুলোতে হত্যাচেষ্টা, গুরুতর জখম, ভাঙচুর, লুটপাট, চুরি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

মামলার নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ৫ জুন সন্ধ্যায় হিরণের খিলগাঁও এলাকার আল্লামা আফজাল আহমাদ দারুল কুরআন মাদরাসা ও এতিমখানার মাঠে একটি মাদকবিরোধী সভা চলাকালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ৮ জুন সিরাজদিখান থানায় উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শাহাদাৎ শিকদার বাদী হয়ে মামলা নং ১১ দায়ের করেন। মামলায় সিফাতুল ইসলাম জনি, বিল্লাল হোসেন, রাসেল, বশির, ইয়াসিন, খোরশেদ, ইয়ামিন, সজিব সরদারসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৫ থেকে ২০ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করা হয়। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা, গুরুতর জখম, চুরি, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।

একই ঘটনার জেরে ২৫ জুন মুন্সীগঞ্জের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২ নম্বর আমলী আদালতে শাহাদাৎ শিকদারের ভাই সাখাওয়াত হোসেন মিকদার একটি সি.আর. মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায়ও সিফাতুল ইসলাম জনি, বিল্লাল হোসেন, রাসেল, বশির, ইয়াসিন ও খোরশেদসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, মাদকবিরোধী সভায় হামলার সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ভর্তি হতে হয়।

এর আগে একই পক্ষের মধ্যে চলতি বছরের ২৩ মে সিরাজদিখান উপজেলার সরদারপাড়া এলাকায় সংঘটিত আরেকটি সহিংস ঘটনার জেরে ২৪ মে সিরাজদিখান থানায় মামলা নং ৩৭ দায়ের করা হয়। ওই মামলায়ও সিফাতুল ইসলাম জনি, বিল্লাল, বশিরসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়।

মামলার নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিনটি মামলার মধ্যে কয়েকজন আসামির নাম অভিন্ন হলেও ২৩ মে ও ৫ জুনের ঘটনাগুলো পৃথক সময়ে সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫ জুনের মাদকবিরোধী সভার ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানায় একটি এবং আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, শেখ মোহাম্মদ শিফাতুল ইসলাম জনি বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে তাদের নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সিরাজদিখানে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবুও একাধিক সূত্র একই ধরনের দাবি করেছে।

সূত্রগুলো আরও দাবি করে, প্রকাশ্যে কোনো রাজনৈতিক নেতা তাকে আশ্রয় বা প্রশ্রয় দিতে দেখা না গেলেও গোপনে কিছু নেতাকর্মীর সহযোগিতা পাওয়ায় জনি ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি ও তার সহযোগীরা এলাকায় মাদকের বিস্তার ঘটান।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, তার বিরুদ্ধে কেউ মাদক ব্যবসার বিষয়ে প্রতিবাদ করলে বা প্রকাশ্যে কথা বললে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি এবং মামলা হামলার মুখে পড়তে হতো। এর আগে বিভিন্ন ব্যক্তি ও স্থানীয়রা তার বিরুদ্ধে একাধিকবার মাদক ব্যবসার অভিযোগ তুলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করলেও তিনি তার কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসেননি বলেও সূত্রগুলোর দাবি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদকবিরোধী সমাবেশের আগেই শাহাদাত শিকদারের পরিবারের সদস্যরা জনির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তাদের লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় শাহাদাত শিকদারের চাচার অফিসে ভাঙচুর, তাদের বাড়িতে হামলা এবং লুটপাটের ঘটনাও সংঘটিত হয়।

গোপন একাধিক সূত্রের জানায়, শেখ মোহাম্মদ শিফাতুল ইসলাম জনি একজন মাদক ব্যবসায়ী এবং তার স্ত্রী রেহানাও দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, রেহানার বিরুদ্ধে অতীতে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা ও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময় আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে তিনি পুনরায় একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। একই সঙ্গে শেখ মোহাম্মদ শিফাতুল ইসলাম জনির বিরুদ্ধেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।

সূত্রগুলোর আরও জানায়, শেখ মোহাম্মদ শিফাতুল ইসলাম জনি নিজেকে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে স্ত্রীর মাদক ব্যবসায় সহযোগিতা করে আসছিলো। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে জনি ও রেহানা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছিলেন।

মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শাহাদাত সিকদার, তার ভাই ও চাচা জাহিদ সিকদারসহ পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় এলাকাবাসী বিভিন্ন সময়ে মাদকবিরোধী কর্মসূচি পালন করেন। সম্প্রতি তাদের উদ্যোগে একাধিক মাদকবিরোধী সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় কয়েকটি গোপন সূত্রের জানায়, রেহানা এলাকায় মাদকের বড় ডিলার হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় খুচরা মাদক বিক্রেতারা তার কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ না করলে বিভিন্ন কৌশলে তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তাদেরকে গ্রেফতার করিয়ে দিতো। এ কারণে অনেকেই ভয়ে তার বিরোধিতা করতেন না এবং তার কাছ থেকেই মাদক সংগ্রহ করে খুচড়া বিক্রি করতো বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, জনি ও রেহানার নেতৃত্বে ঢাকা জেলা এবং আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা ও জেলায় একটি বিস্তৃত মাদক সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। এতে স্থানীয় যুবসমাজসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যে মাদকের বিস্তার সহজতর হয় বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

জনি ও তার স্ত্রীর এই মাদক ব্যবসা ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার কারণেই সম্প্রতি শাহাদাত সিকদার ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। ওই হামলার ঘটনায় থানা ও আদালতে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সিরাজদিখান থানার ওসি আলাউদ্দিন বলেন, “মামলাগুলো আমার যোগদানের আগেই হয়েছে। তবে মামলা হওয়ার পর থেকেই তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) আসামিদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমার জানা মতে, জনি ও রেহেনা বর্তমানে এলাকায় নেই। তারা যেখানেই থাকুক, তাদের অবস্থান শনাক্ত করা গেলে আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।”তিনি আরও বলেন, “মাদকবিরোধী সভায় হামলার বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। রাজনৈতিক কোনো যোগসাজশ আছে কি না, সে বিষয়ে আমাদের কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। আমাদের দায়িত্ব হলো মামলার আসামিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা।”

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।