রাজধানীর গুলশানের একটির ‘রেস্টহাউসে’ গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে ২৪৪ লিটার অবৈধ বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিএনসির পক্ষ থেকে আজ শুক্রবার এসব তথ্য জানানো হয়। ডিএনসি বলছে, গুলশান-২ নম্বর এলাকায় অবস্থিত রেস্টহাউসটির কোনো বার লাইসেন্স নেই। তারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বিদেশি মদ–বিয়ার মজুত করছিল। এগুলো পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করছিল। তারা টিকিট বিক্রি করে ‘ডিজে পার্টি’ আয়োজন করত। এসব পার্টিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিদেশি মদ, বিয়ারসহ বিভিন্ন মাদক সরবরাহ করা হতো।
ডিএনসি সূত্র বলছে, এ–সংক্রান্ত তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের পর গতকাল দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রেস্টহাউসটিতে অভিযান চালানো হয়। ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক জাহিদ হোসেন মোল্লার নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ডিএনসির একাধিক দল অংশ নেয়। রেস্টহাউস থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২২৩ বোতল অবৈধ বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। এসব বোতলে মোট ১৭৭ লিটার মদ ছিল। এ ছাড়া ২০৯টি বোতল ও ক্যানে থাকা মোট ৬৭ লিটার অবৈধ বিয়ার জব্দ করা হয়। অভিযানকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক আতাউর রহমান ওরফে শামীম (৪২)। জব্দ করা মদ ও বিয়ারের বৈধতার বিষয়ে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়। প্রয়োজনীয় নথিপত্র চাওয়া হয়। কিন্তু তিনি তা দেখাতে পারেননি। বিক্রির উদ্দেশ্যে অবৈধ মদ–বিয়ার মজুত ও সংরক্ষণের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান প্রথম আলোকে বলেন, কথিত ‘জার্মান ক্লাব’ নামে প্রতিষ্ঠানটি চলছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত নাম ‘সেভেনটি এইট রেস্টহাউস সোসাইটি’। প্রতিষ্ঠানটির বৈধতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে মো. ওমর জামিল (৪৫) নামের আরেক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে অভিযানকালে তিনি
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। আরও একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় শামীম, জামিলসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানান মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


