নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতানবাগ এলাকায় শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের (পুষ্টিগুরু) বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন এলাকাবাসী। ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে জনদুর্ভোগের অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানটি আবাসিক এলাকা থেকে সরিয়ে উপযুক্ত শিল্পাঞ্চলে স্থানান্তরের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, “এটি একটি গ্রাম, এখানে মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করে। এটি কোনো বাণিজ্যিক এলাকা নয় যে, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ভারী যানবাহনের চাপে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হবে।”
তাঁদের অভিযোগ, শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের যানবাহন চলাচলের কারণে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ ও জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও সাধারণ বাসিন্দাদের চলাচল এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনে ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
বক্তারা বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা, স্বস্তি ও বসবাসের অধিকার নিশ্চিত করাও জরুরি। ব্যবসা-বাণিজ্যের কারণে একটি গ্রামের মানুষ কেন দুর্ভোগের শিকার হবেন—এ প্রশ্ন তুলে তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
মানববন্ধন থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে এলাকাবাসী বলেন, তাঁদের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করতে হবে এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজকে আবাসিক এলাকা থেকে সরিয়ে উপযুক্ত শিল্পাঞ্চলে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তাঁরা।
এলাকাবাসীর স্পষ্ট বার্তা—গ্রামের মানুষের শান্তি ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের অধিকার কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না। তাঁদের দাবি, জনদুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় রাখতে হবে।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক প্রধান, তারাবো পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শহীদুল্লাহ মুন্সী, সদস্যসচিব সেলিম প্রধান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ইয়ার হোসেন প্রধান, ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল্লাহসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ।
মানববন্ধন থেকে এলাকাবাসী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়ে বলেন, “আমরা আমাদের গ্রামের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে পেতে চাই। মানুষের বসবাসের অধিকার রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।”


