মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে হামলা ও হত্যাচেষ্টা এবং টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের মামলার অন্যতম আসামি রফিক বেপারীর ছেলে আরিফ বেপারী সহ ১০জন এবং অজ্ঞাতনামা আরো ১৫/২০ জন আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাদের পুলিশ গ্রেফতার করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন, রফিক বেপারীর আরেক ছেলে রোমান মাঝি, মৃত সোনা মিয়া শেখের দুই ছেলে অপু শেখ ও স্বপন শেখ, মৃত মজনু শেখের ছেলে দিদার শেখ, মনির শেখের ছেলে রিমন শেখ, মৃত বিল্লাল বেপারীর ছেলে সিয়াম শেখ, বাবুল শেখের ছেলে হাসান শেখ রানা, শাহ আলম খানের ছেলে আরিয়ান ইসলাম সবুজ, অহিদ মৃধার ছেলে তানজিল হোসেন সহ আরো অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জন।
জানা যায়, মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার কোলাপাড়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার দক্ষিণ পাইকশার আব্দুল ওহাব দেওয়ান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল প্রতীকের পক্ষে কাজ করায় আর আসামিগন ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে থাকায় বিভিন্ন সময় হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় নির্বাচন পরবর্তী গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে আসামিগন আমাদের বাড়িতে এসে সবাইকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করিলে আব্দুল ওহাব দেওয়ান এগিয়ে এসে গালিগালাজ বন্ধ করতে বল্লে রফিজ ব্যাপারীর ছেলে আরিফ ব্যাপারির নেতৃত্বে উল্লেখিত ব্যাক্তিরা সহ আরো নাম না জানা ১৫/২০ জন মিলে আমাদের বসত ঘরের টিনের বেড়া কুপিয়ে ভিতরে ঢুকে আলমারিতে থাকা নগদ ২ লক্ষ্য টাকাসহ ৩ ভরি স্বর্ণালংকার যাহার মুল্য ৫ লক্ষ্য টাকা এবং ঘর ও আলমারি ভাঙচুর করে যাহার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৫০, হাজার সহ সর্বমোট ৭ লক্ষ্য ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করিলে ভিকটিম আব্দুল ওহাব দেওয়ান বাঁধা দিলে তাকে সহ বাসার আরো লোকজন কে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে আহত করে এই সকল সন্ত্রাসী দল। তার মাথায় ও হাতে কয়েকটি কোপ দিয়ে হাত ভেঙ্গে পেলে এবং মাথার অনেক অংশ কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে এই সন্ত্রাসীরা। পরবর্তীতে তাদের ডাক-চিৎকারে এলাকার লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের ঢাকা মেডিকেল এ রেফার করেন। ঢাকা মেডিকেল এ চিকিৎসা নিয়ে তারা সিট না পাওয়ার কারণে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনিস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে শ্রীনগর থানায় মামলা দায়ের করতে আসলে মামলা না নেওয়ায় মুন্সীগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন যাহার মামলা নং ১২৬/২০২৬ তাং ১৭/২/২০২৬
মহামান্য আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ কে এফআইআর করতে বল্লে ২০ ফেব্রুয়ারি মামলাটি এফআইআর করে নথিভুক্ত করেন যাহার মামলা নং ১৪ তবে ঘটনার এতদিন পার হয়ে যাওয়ার পরও আসামিদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
এ বিষয়ে মামলার বাদী বলেন, মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে তৎপর নয়। তারা এখনো আমাদের হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে আমাদের কে মাটির নিচে পুঁতে রাখবে বলে হুঁশিয়ারি করছে। এই সকল বিষয়ে এবং একাধিকবার আসামিদের অবস্থান জানালে ও তাদের কে গ্রেফতারে অনীহা দেখাচ্ছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জাহাঙ্গীর আলম।
তবে আরও অভিযোগ উঠেছে তদন্তকারী কর্মকর্তার সাথে আঁতাত করে এই সকল আসামিগন ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে জানান এলাকার নাম প্রকাশ না করার শর্তে কিছু সচেতন মহলের।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কোন এক অশুভ শক্তির নির্দেশে প্রকাশ্যে তাদের অবাধ বিচরণ ও রামরাজত্বে পুলিশের নীরব ভূমিকায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীনগর থানার এসআই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা অভিযান পরিচালনা করছি আসামিরা পলাতক রয়েছেন। দ্রুত তাদের গ্রেফতার করবো। আসামিদের গ্রেফতারের অনীহার কথা সঠিক নয়। তাদের গ্রেফতার অব্যহত রয়েছে।
এ বিষয়ে শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জুয়েল মিয়া বলেন, আমরা কোন মামলাকে রাজনৈতিক মামলা হিসেবে বিবেচনা করি না। আমরা দেখি ব্যক্তি এরকম একটা মামলার কথা আমি শুনেছি যা মারাত্মক বা গুরুতর কোন হতাহতের ঘটনা আমি জানতে পারিনি। মেডিকেল রিপোর্ট আসার কথা রিপোর্ট আসার সাথে সাথেই আমরা এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এছাড়া ও একজন বৃদ্ধ লোকের গায়ে হাত দিয়েছে এটাই যথেষ্ট এখানে আর কোন কারণ লাগবে না বিষয়টি আমি অতিদ্রুত দেখছি।


