এইচ এম হাছনাইন, তজুমদ্দিন প্রতিনিধি
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় জনবলের সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, চিকিৎসক স্বল্পতা, নার্স সংকট, প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবের কারণে রোগীদের সময়মতো চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ প্রেক্ষাপটে আসন্ন তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, তজুমদ্দিন উপজেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব হারুনুর রশিদ হাসপাতালের সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং চিকিৎসক সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, তজুমদ্দিনের কয়েক লক্ষ মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবলের সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। জরুরি চিকিৎসাসেবা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
তিনি মাননীয় জাতীয় সংসদের স্পিকার ও মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নিকট নিম্নোক্ত দাবিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানান—
প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ।
অভিজ্ঞ ও দক্ষ নার্স নিয়োগ।
প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক জনবল বৃদ্ধি।
হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা।
২৪ ঘণ্টা জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা।
আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
আলহাজ্ব হারুনুর রশিদ বলেন, “জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তজুমদ্দিনের মানুষ যেন নিজ উপজেলাতেই উন্নত চিকিৎসাসেবা পান, সে লক্ষ্যে দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।”
তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও নার্স সংকট নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
জানা গেছে যে, তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ২০১১ সাল থেকেই প্রয়োজনীয় ১৬ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও ৩-৫ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছিল।
কিন্তু গত দুই বছর ধরে ১৬ জন চিকিৎসকের পরিবর্তে মাত্র ১ জন পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রয়েছেন। তিনিও রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন না বলে জানা গেছে।
এখন চিকিৎসকের কাজ করছে নার্স ও স্টাফরা। নার্স ৩২ জন থাকার কথা থাকলেও ১১ জন আছে।
একটি সূত্রে জানা যায় যে, তজুমদ্দিনের ডায়াগনস্টিক ব্যবসায়ীরা তাদের ডায়াগনস্টিকে ঢাকা থেকে ডাক্তার আনেন। তারা বিরোধীতা করে হাসপাতালে নাকি ডাক্তার আসতে দেন না। আর আসলেও তাদেরকে বিভিন্নভাবে প্ররোচিত করে বদলি হওয়ার উৎসাহ প্রদান করেন।
এ সম্পর্কে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার রাহাত হোসেন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তজুমদ্দিন উপজেলা হাসপাতালে ৩ জন চিকিৎসক নিয়োগ দিলেও চিকিৎসকরা এখানে আসতে চান না। আর আসলেও বিভিন্ন কারণে তারা অপমানের স্বীকার করে মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই বদলি হয়ে যান।
গোপন সূত্রে আরো জানা যায় যে, ডাক্তাররা যদি ডায়াগনস্টিক চেম্বার করে তাহলে সেখান থেকে নাকি অনেককে কমিশন দিতে হবে। না দিলে ডাক্তারদেরকে হুমকি-ধামকি গালিগালাজ করা হয়। এজন্যই তারা আসতে চান থাকতে চান না।
তজুমদ্দিন উপজেলাবাসীও এই দ্রুত সংকট নিরসনের জোর দাবি জানিয়েছেন।


