সোমবার (৬ই এপ্রিল) জৈনক কালামের ব্যক্তিগত গন্ডগোলকে কেন্দ্র করে নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ ইকরামুল বারী টিপুর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চৌধুরী (বাবুল)। এসময় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন খাঁন, সাংগঠনিক সম্পাদক কুমার বিশ্বজিত ও সামসুল ইসলাম বাদল। বাবুল চৌধুরীর পক্ষে লিখিত বক্তব্যে বেলাল খাঁন অভিযোগ করেন মাননীয় সংসদ সদস্য ও তাঁর অনুসারীরা এঘটনাসহ পূর্বে আরো ঘটনা ঘটিয়েছে।এব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিএনপি নেতা বলেন আজকের সংবাদ সম্মেলন মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। এমপি সাহেব সংসদ অধিবেশনের কারণে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তাঁর সভাকক্ষ সর্বাক্ষণিক তালাবদ্ধ। অন্য যাদের নাম বলছে তারা এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত না। এ সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে, এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়। সচেতন মহলের দাবি বিগত সময়ে ইউনিয়ন বিএনপির পকেট কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বর্তমান এমপির সাথে তাদের বিরোধ শুরু হয়। পরবর্তীতে উপজেলা কমিটি গঠন, মনোয়ন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বিরোধ আরো দৃশ্যমান হয়। তারা মানববন্ধনের মত কর্মসূচীও পালন করে।২০০৪ সালে সাবেক সহ-সভাপতি মুনসুর মৃধা খুন হন এবং উচ্চ আদালতে বিচার কার্য্য শেষ হয়। শুধু মাত্র শক্রুতার কারণেই তারা সংসদ সদস্যের ফাঁসির দাবীতে সংবাদ সম্মেলন, পোষ্টার, লিফলেট বিতরণের মত একাধিক কর্মসূচীপালন করে। বিগত নির্বাচনে বহিষ্কারের ভয়ে সামনে দিয়ে ধানের শীষের প্রচার প্রচারণা চালালেও ভিতরে ভিতরে দাঁড়িপাল্লার হয়ে কাজ করে। তাদের নিজ নিজ কেন্দ্র ভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করলে প্রতিয়মান হয় তারা দাঁড়িপাল্লার ভোট করেছে এবং সাধারণ ভোটারেরা এ অভিযোগ গুলো এখনো করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই সংবাদ সম্মেলন দীর্ঘ্য শক্রুতার।
“এ ধরনের বিহীন কর্মকান্ড, বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে না, বরং জনগণকে বিভ্রান্ত করছে।”
স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে সংবাদ সম্মেলনে জড়িতদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এবং এমপি সাহেবের মানহানিকর বিষয়কে সামনে এনে তাদের বহিষ্কারের দাবি তুলেছেন। তারা মনে করেন,
“দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা, এমপির ইমেজকে নষ্ট করা এবং অসত্য তথ্য প্রচারের দায়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
একজন স্থানীয় কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ব্যক্তিস্বার্থে এমন নাটকীয় সংবাদ সম্মেলন দল ও এলাকার জন্য ক্ষতিকর। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদীও হতে পারে।”
এদিকে, সাধারণ জনগণের মধ্যেও এ নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই এটিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেও প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সত্যতা যাচাই এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের বিতর্ক ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে। এ বিষয়ে সংসদ সদস্য বলেন যারা ষড়যন্ত্র করে নির্বাচনে আমাকে পরাস্ত করতে পারে নাই তারাই এখন ষড়যন্ত্র করছে আমার ভাবমূর্তি বিনষ্ট করবার জন্য। আমি এর তীব্র নিন্দাও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। মান্দা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতির আহবানে বাবুল চৌধুরীসহ সংবাদ সম্মেলনকারীদের বহিষ্কারের দাবীতে আগামীকাল বিকেল ৪ ঘটিকায় প্রসাদপুর চৌরাস্তায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠণের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।


