ঢাকাFriday , 30 October 2026
  1. @লিড
  2. *খুলনা বিভাগ
  3. *ঢাকা বিভাগ
  4. অপরাধ
  5. অর্থনীতি
  6. আইন-আদালত
  7. আজকের-সর্বশেষ
  8. আন্তর্জাতিক
  9. কলাম
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খেলাধুলা
  12. গণমাধ্যম
  13. চট্টগ্রাম বিভাগ
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয়
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাউফলে তৃতীয় স্ত্রী ফারজানার ঘরের ইট আর মরদেহে বাধা ইটের মিল, তাহলে কি খুনি ফারজানা?

Link Copied!

২০

সাংবাদিক শেখ মোঃ জাফরান আল হারুন (এম জাফরান হারুন) এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক রহস্য, উদঘাটন হতে যাচ্ছে খুব দ্রুত নিখোঁজ আলম গাজী ওরফে আলম ফকিরের। যদিও পটুয়াখালীর বাউফল পৌর শহরের বাংলাবাজার মসজিদ সংলগ্ন আলগী খাল থেকে উদ্ধার হওয়া অর্ধগলিত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে প্রথম স্ত্রী পিয়ারা ও দ্বিতীয় স্ত্রী পরিবার। নিহত ব্যক্তির নাম আলম গাজী ওরফে আলম ফকির (৪৭) এমনটাই দাবি করে মরদেহ উদ্ধারের তিন দিন আগে তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন বলে জানান পরিবার। এ ঘটনায় প্রথম স্ত্রীর মেয়ে রিপা বেগম বাদী হয়ে বাউফল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

এদিকে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্য, আলোচনা ও সমালোচনা। আলম গাজী ওরফে আলম ফকিরের প্রথম স্ত্রী পিয়ারা ও দ্বিতীয় স্ত্রী পরিবার বলেছেন দাসপাড়া পুরানো বাসস্ট্যান্ড আলগী খাল সংলগ্ন একটা পাকা বাসা ভাড়া নিয়ে তৃতীয় স্ত্রী ফারজানার সাথে থাকতেন আলম গাজী ওরফে আলম ফকির। তৃতীয় স্ত্রী ফারজানার কাছ থেকেই নিখোঁজ হন আলম গাজী ওরফে আলম ফকির। কিন্তু তৃতীয় স্ত্রী ফারজানা জানান যে যেদিন থেকে আলম গাজী ওরফে আলম ফকির নিখোঁজ হন সেই দিন ছিল বুধবার ২১ অক্টোবর-২৬ ইং তারিখ। তৃতীয় স্ত্রী ফারজানার কথা অনুযায়ী ওইদিন তারিখ সকালে বাসা থেকে বের হয়ে কোথাও চলে যান তার স্বামী আলম গাজী ওরফে আলম ফকির। এরই মধ্যে শুক্রবার ২৩ অক্টোবর-২৬ ইং বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পৌর শহরের বাংলাবাজার জামে মসজিদ সংলগ্ন আলগী খাল থেকে হাত-পা বাধা ১৬/১৭ টি ইট বাধা অবস্থায় অজ্ঞাত পরিচয়ে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ স্থানীয়দের দেখানো মতে উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় মরদেহের পড়নে থেকে একটা লাল জাতীয় গেঞ্জি বা টি-শার্ট ও সাদা রংয়ের লুঙ্গি এবং মরদেহ কে ডুবিয়ে রাখার জন্য মরদেহে বাধা ১৬/১৭ টা ইট আলামত হিসেবে সংগ্রহ করে পুলিশ।

তবে তৃতীয় স্ত্রী ফারজানা তার স্বামী নিখোঁজ হওয়ার কথা শুনে বা বুজেও থানায় কোনো প্রকার জানাননি বা জিডি করেননি। যখন প্রথম স্ত্রী পিয়ারা ও দ্বিতীয় স্ত্রী পরিবারের শনাক্ত করার কথা শুনেন বা একটা মরদেহ পাওয়া গেছে এমন সংবাদ পেয়ে শনিবার ২৪ অক্টোবর-২৬ ইং তারিখ রাতে থানায় একটি জিডি করা হয়। আবার তৃতীয় স্ত্রী ফারজানার ওড়ষা ঘরের ভিতরে থাকা ইটের সাথে মরদেহে বাধা ইটের সাথে মিল রয়েছে। আবার সাংবাদিকদের তৃতীয় স্ত্রী ফারজানা জানিয়েছিলেন যে যখন বাসা থেকে আলম গাজী ওরফে আলম ফকির বের হয়ে যান তখন তার পড়নে ছিল একটা পাঞ্জাবি ও লুঙ্গি। কি রংয়ের লুঙ্গি এমন প্রশ্ন করলে তিনি সাদা লুঙ্গি পড়েননি বলে জানান। আবার আলম গাজী ওরফে আলম ফকিরের লাল কোনো গেঞ্জি বা টি-শার্ট ছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি লাল গেঞ্জি বা টি-শার্ট কখনো পড়েন না বা লাল কোনো গেঞ্জি বা টি-শার্ট তার নেই। তবে তৃতীয় স্ত্রী ফারজানা অন্য অন্য রংয়ের জামা-কাপড় দেখিয়েছেন। কিন্তু এই তৃতীয় স্ত্রী ফারজানার সাথেই আলম গাজী ওরফে আলম ফকির সাদা লুঙ্গি ও লাল গেঞ্জি বা টি-শার্ট গায়ে দেওয়া অবস্থায় একটা টিকটক ভিডিও ফেসবুকে রয়েছে।

এদিকে তৃতীয় স্ত্রী ফারজানা বলেছেন যে বুধবার সকালে বাসা থেকে বের হয়ে গেছেন আলম গাজী ওরফে আলম ফকির কিন্তু বাউফল পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সিদ্দিকুর রহমান জানান যে আমি ও আমার মা বুধবার দিন বিকেলে কালাইয়া যাই। আসার পথে ল্যাংড়া মুন্সির পোলগোড়ায় আলম গাজী ওরফে আলম ফকির মামার সাথে দেখা হয়। পরে মামায় আমাকে ও মাকে নিয়ে তার বাসায় গিয়ে চা নাস্তা করান। নাস্তা তার স্ত্রী ফারজানা করে দিয়েছেন। পরে সন্ধ্যার সময় আমি ও মা চলে আসি। তৃতীয় স্ত্রী ফারজানার কথা বার্তায় কোনো মিল পাওয়া যায় না। এমন কথা বার্তায় দেখা দিয়েছে এলাকায় আলোচনা সমালোচনা। মানুষ জন করছেন বিভিন্ন গুঞ্জন। তবে পরিবার সহ এলাকাবাসী তৃতীয় স্ত্রী ফারজানা সহ সন্দেহ ভাজনদের কে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় এনে মূল রহস্য উদঘাটন করতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। এতেই বেড়িয়ে আসবে হত্যার ঘটনা এবং কারা কারা জরিত।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহ আলম গাজী ওরফে আলম ফকিরের। গত বুধবার তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন। শনিবার রাতে তারা একটি মরদেহ উদ্ধারের খবর জানতে পারেন। পরে রোববার সকালে কালাইয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে পুলিশের সংগ্রহ করা আলামতের মধ্যে থাকা লুঙ্গি ও টি-শার্ট দেখে মরদেহ আলম ফকিরের বলে শনাক্ত করেন তারা।

নিহতের মেয়ে ও মামলার বাদী রিপা বেগম বলেন, বাবা বিভিন্ন এলাকায় ওরস অনুষ্ঠানে ভাণ্ডারি গান পরিবেশন করতেন। তিনি তিনটি বিয়ে করেছিলেন। আমার মা পিয়ারা বেগম প্রথম স্ত্রী। দ্বিতীয় স্ত্রী ও আমাদের সঙ্গে বসবাস করতেন। তবে বাবা তার তৃতীয় স্ত্রী ফারজানার সঙ্গে আলগী খাল সংলগ্ন দাশপাড়া এলাকায় থাকতেন। সেখান থেকেই গত বুধবার তিনি নিখোঁজ হন।

কালাইয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) মনিরুজ্জামান সরদার জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহের পোশাক ও শারীরিক গঠনের বিবরণ মিলিয়ে পরিবারের সদস্যরা আলম ফকিরকে শনাক্ত করেছেন। মরদেহ উদ্ধারের পর নৌ-পুলিশের কর্মকর্তা সরওয়ার আলম সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। মরদেহ পানিতে ডুবিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে শরীরের সঙ্গে প্রায় ১৭টি ইটভর্তি একটি প্লাস্টিকের বস্তা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। পরে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম মরদেহের দাফনের ব্যবস্থা করে। হত্যা মামলার তদন্ত করবে বাউফল থানা পুলিশ।

বাউফল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। তদন্তের মাধ্যমে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

এবিষয়ে বাউফল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সব্যসাচী বলেন, এব্যাপারে আমাদের তদন্ত চলমান রয়েছে। এবং ডিএনএ টেস্টের জন্য আলামত পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।