নুরুল আমিন, লালমোহন:
ভোলার লালমোহন উপজেলায় চার বছরের শিশু মো. আল-আমিন জন্ম থেকেই জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছে। নাভীর নিচে গুরুতর ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেওয়া এই শিশুটির স্বাভাবিক প্রস্রাবের পথ নেই। চিকিৎসকেরা সাময়িকভাবে নাভীর মাধ্যমে প্রস্রাবের ব্যবস্থা করলেও কষ্ট কমেনি তার।
শিশুটির বাবা মো. আজাদ জানান, চার কন্যার পর একমাত্র পুত্র সন্তানকে ঘিরে ছিল তার অনেক স্বপ্ন। কিন্তু সন্তানের অসুস্থতা সেই স্বপ্নকে কঠিন বাস্তবতায় পরিণত করেছে। তিনি চট্টগ্রামে রিকশা চালানো ও দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
সন্তানের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে তিনি ঢাকার শিশু হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে ছুটেছেন। চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে নিজের বসতভিটাও বিক্রি করে দিয়েছেন। বর্তমানে পরিবার নিয়ে উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের কর্তারহাট বাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
তিনি জানান, এ পর্যন্ত সন্তানের চিকিৎসায় তিন লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুটির জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন, যার মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রস্রাবের পথ তৈরি করা সম্ভব হবে। এতে নাভীর মাধ্যমে প্রস্রাবের কষ্ট থেকে মুক্তি পাবে আল-আমিন।
তবে এই অপারেশনের জন্য প্রয়োজন প্রায় দেড় লাখ টাকা, যা একজন অসহায় দিনমজুর বাবার পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
অসহায় এই বাবা সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সবার কাছে সন্তানের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা কামনা করেছেন। সাহায্য পাঠানোর জন্য তিনি বিকাশ নম্বর (০১৮৯২২৪৪১৩১) দিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুদ বলেন, সরকারি পর্যায়ে সরাসরি দেড় লাখ টাকা অনুদানের সুযোগ না থাকলেও সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করালে রোগী কল্যাণ তহবিল থেকে কিছু সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি আবেদন করলে পরিবারটিকে সমাজসেবার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।


