আবুল বাশার, ভোলা প্রতিনিধিঃ
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের খরিপ-১ মৌসুমে কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায়ধীন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। আউশ ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার মোট ৭ হাজার কৃষককে এ সহায়তা প্রদান করেন উপজেলা কৃষি অফিস।
বুধবার (১৫ এপ্রিল২০২৬) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এসময় অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ভোলা-২ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব হাফিজ ইব্রাহিম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাফরুজা সুলতানা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনোরঞ্জন বর্মনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ গোবিন্দ মন্ডল। তিনি বলেন,সরকারের কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচি কৃষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ। এর মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকরা বিনামূল্যে উন্নতমানের বীজ ও সার পেয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবেন। তিনি আরও জানান, সময় মতো এসব উপকরণ সরবরাহের ফলে চলতি মৌসুমে আউশ ধানের আবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, কৃষিই দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। কৃষকদের সহায়তা করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে । বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কৃষকদের জন্য একটি বড় সহায়তা, যা খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে। তিনি কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অধিক ফলন অর্জনের আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি জনাবা মাফরুজা সুলতানা বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই দেশে সবুজ বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান নেতৃত্ব কৃষকদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন বর্তমান সরকার কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড প্রকল্প চালু করা একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহন করেছে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষকদের মাঝে এই সহায়তা বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে পৌরসভায় ১০০ জন, কাচিয়া ৮৫০ জন, গঙ্গাপুরে ৭৫০ জন, সাচরায় ৮০০ জন, দেউলায় ৮০০ জন, হাসাননগরে ৪০০ জন, টবগীতে ৮৫০ জন, পক্ষিয়ায় ৮০০ জন, বড়মানিকা ৮৫০ জন এবং কুতুবায় ৮০০ জন কৃষক এ সুবিধা পাবেন।
অনুষ্ঠান শেষে কৃষকদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। কৃষকরা এই সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন, এতে তাদের উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং তারা অধিক জমিতে আবাদ করতে উৎসাহিত হবেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে চলতি মৌসুমে আউশ ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।


