স্টাফ রিপোর্টার : হাসমত
গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানাধীন হাতিমারা এলাকায় জমি জবরদখলের চেষ্টা, ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, শিল্পকারখানায় একাধিক হামলা, ভাঙচুর, শ্রমিকদের মারধর, কোটি টাকার মালামাল লুট এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগী আব্দুর রউফ খান।
রোববার সকাল ১০টায় কাশিমপুরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হাতিমারা এলাকায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে রমজান আলীর নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু চক্র তার বৈধভাবে ক্রয়কৃত জমি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে।
লিখিত বক্তব্যে আব্দুর রউফ খান জানান, হাতিমারা এলাকায় প্রায় ৪৮ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি তিনি বৈধভাবে ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। ওই জমিতে তিনি রুটেক্স কর্পোরেশন লিমিটেড নামে একটি কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানে বিদেশি (চীনা) নাগরিকদের কাছে টিনশেড ভবন ভাড়া দেওয়া রয়েছে। একই জায়গায় মাসুম ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক স্থাপনেরও প্রস্তুতি চলছিল।
তিনি অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছর ধরে রমজান আলীর নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র তার জমি দখলের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে আসছে। গত ১৩ মে অভিযুক্তরা দলবল নিয়ে তার কারখানায় প্রবেশ করে বাউন্ডারি ওয়ালের একটি অংশ ভেঙে ফেলে, গাছ কেটে ক্ষতিসাধন করে এবং নির্মাণকাজের জন্য রাখা প্রায় তিন টন রড, ১০০ ব্যাগ সিমেন্ট ও প্রায় পাঁচ হাজার ইট নিয়ে যায় বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এরপর থেকে তার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারের কাছে প্রথমে ৩০ লাখ এবং পরে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ম্যানেজার আলমগীর হোসেন ও নিরাপত্তাকর্মী সুজন সিকদারকে মারধর করা হয় এবং কারখানা বন্ধ করে দেওয়া, ব্যবসা পরিচালনা করতে না দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুর রউফ খান বলেন, গত ২৩ মে অভিযুক্তরা আবারও তার কারখানার সামনে এসে চাঁদা দাবি করে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে তাকে, তার ম্যানেজারকে হত্যা, কারখানায় ভাঙচুর এবং সেখানে থাকা যন্ত্রপাতি ও মালামাল লুট করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ৬ জুন সকালে রমজান আলীর নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি সশস্ত্র দল একটি কাভার্ড ভ্যানে করে কারখানায় প্রবেশ করে। তারা সেখানে থাকা মাসুম ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের জন্য ক্রয়কৃত দুটি সার্কুলার নিটিং মেশিন, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এবং জুটজাত পণ্যসহ প্রায় ৭৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের মালামাল জোরপূর্বক নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীর দাবি, এ সময় বাধা দিতে গেলে তার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আলমগীর হোসেন ও নিরাপত্তাকর্মী সুজন সিকদারকে মারধর করে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। এমনকি ম্যানেজারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যারও চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত মালামাল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুর রউফ খান বলেন, কাশিমপুর থানায় অভিযোগ দিতে গেলে প্রথমে মামলা গ্রহণ করা হয়নি। পরে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালতের নির্দেশে কাশিমপুর থানায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা রুজু হয়। তবে মামলার আসামিদের এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, “আমি ও আমার পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। আমার শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। আমি প্রশাসনের কাছে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং আমার পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অতীতেও হত্যা চেষ্টা, চাঁদাবাজি, জমি দখল, হামলা, ভাঙচুর ও অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে।


