ঢাকাSunday , 1 November 2026
  1. @লিড
  2. *খুলনা বিভাগ
  3. *ঢাকা বিভাগ
  4. অপরাধ
  5. অর্থনীতি
  6. আইন-আদালত
  7. আজকের-সর্বশেষ
  8. আন্তর্জাতিক
  9. কলাম
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খেলাধুলা
  12. গণমাধ্যম
  13. চট্টগ্রাম বিভাগ
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয়
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাগেরহাটে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে মিষ্টি, অভিযানেও মিলছে না সমাধান

Link Copied!

৪৪

দোকানের সামনে কাচের শোকেসে সাজানো বাহারি রকমের মিষ্টি। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই, ভেতরে কোন পরিবেশে তৈরি হচ্ছে এসব খাবার। কোথাও কর্মীদের মাথায় নেই হেডক্যাপ, পরনে অপরিষ্কার পোশাক। আবার কোথাও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি হচ্ছে ছানা ও মিষ্টি। মিষ্টির মধ্যে তেলাপোকা, চুলসহ বিভিন্ন ধরনের ময়লা পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহৃত পানি, উপকরণ ও রসের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ক্রেতারা।

বাগেরহাট শহরের কয়েকটি মিষ্টির দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরি ও পরিবেশনের এমন অভিযোগে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে। অভিযোগ রয়েছে, বাহ্যিক সাজসজ্জা ও কাচের শোকেসের আড়ালে খাবার তৈরির পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে অবহেলা করা হচ্ছে। কোথাও খাবার খোলা অবস্থায় রাখা, কর্মীদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি, অপরিষ্কার তৈজসপত্র ব্যবহার এবং খাবার সংরক্ষণে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বাসি জিলাপি ও আগের দিনের মিষ্টি বিক্রির অভিযোগও উঠেছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন সময়ে অভিযান ও জরিমানার পরও পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগের তালিকায় রয়েছে কানাই লাল ঘোষ অ্যান্ড সুইটস, মিষ্টি মেলা, অসীম ঘোষ, আদি সাতক্ষীরা ঘোষ ডেইরি, সাতক্ষীরা ডেইরি, অসীম ঘোষ ডেইরি, রণজিৎ কেবিন, ঘোষ ডেইরি ও বিসমিল্লাহ মিষ্টিসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিন পরিদর্শন ও খাবারের নমুনা পরীক্ষা জরুরি বলে মনে করছেন ভোক্তারা।

স্থানীয় ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এসব দোকান থেকে মিষ্টি কিনে খাচ্ছেন। কিন্তু মিষ্টি তৈরির পরিবেশ, ব্যবহৃত উপকরণ এবং খাবার সংরক্ষণের পদ্ধতি কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে যথেষ্ট নিশ্চয়তা নেই। কয়েকটি দোকানে মিষ্টির মধ্যে তেলাপোকা ও অন্যান্য ময়লা পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে কানাই লাল ঘোষ অ্যান্ড সুইটসের মিষ্টিতে তেলাপোকা পড়ে থাকতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কর্মীরা যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করেই মিষ্টি তৈরি করছেন। কোথাও মাথায় হেডক্যাপ ছাড়াই কাজ করছেন কারিগররা, আবার কোথাও অপরিষ্কার পোশাকে মিষ্টি প্রস্তুত করা হচ্ছে। ছানা তৈরির স্থান, পানি ও অন্যান্য উপকরণের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

এ ছাড়া মিষ্টি তৈরির কাজে ব্যবহৃত হাঁড়ি, পাতিল, ট্রে, বাটি ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। খাবার তৈরির স্থানে মাছি ও তেলাপোকার উপদ্রব, মেঝে ও দেয়ালের পরিচ্ছন্নতা, ময়লা-আবর্জনা রাখার ব্যবস্থা এবং নিরাপদ পানির ব্যবহারও খাদ্য নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এসব ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম থাকলে তা ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এ ছাড়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আগের দিনের জিলাপি ও বাসি মিষ্টি বিক্রির অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। অবিক্রীত খাবার কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়, পরদিন বিক্রির আগে সেগুলোর মান যাচাই করা হয় কি না এবং পুরোনো খাবারের সঙ্গে নতুন খাবার মেশানো হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

কানাই লাল ঘোষ অ্যান্ড সুইটসের প্রোপাইটর প্রীতম ঘোষের কাছে বক্তব্য জানতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

খাদ্যপণ্যে অনিয়ম ও ভোক্তা অধিকারবিরোধী কর্মকাণ্ড রোধে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করে। অনিয়মের প্রমাণ পেলে জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে স্থানীয় ভোক্তাদের অভিযোগ, অভিযান ও জরিমানার পরও কিছু প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা নিয়ে একই ধরনের সমস্যা দেখা যাচ্ছে।

প্রশ্ন উঠেছে, অভিযান পরিচালনার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবেশে পরিবর্তন এসেছে কি না, জরিমানার পর পুনরায় তদারকি করা হয় কি না এবং একই ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শুধু জরিমানা নয়, খাবার তৈরির পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন ভোক্তারা।

ক্রেতাদের মতে, মিষ্টি কেনার সময় বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখে খাবারের মান বোঝার সুযোগ নেই। তাই দোকানের ভেতরের পরিবেশ, খাবার তৈরির পদ্ধতি এবং সংরক্ষণব্যবস্থা নিয়মিত তদারকি করা প্রয়োজন।

ক্রেতা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন,আমরা দোকানের সামনে মিষ্টি দেখে কিনে নিয়ে যাই। কিন্তু ভেতরে কী পরিবেশে মিষ্টি তৈরি হচ্ছে, তা জানি না। মিষ্টির মধ্যে তেলাপোকা, চুলসহ ময়লা থাকলে সেগুলো কীভাবে খাওয়া সম্ভব? বাসি মিষ্টি বিক্রি করা হলে তা আরও ভয়ংকর। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এসব অনিয়ম বন্ধ করা এবং ভোক্তাদের নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করা।

এ বিষয়ে বাগেরহাটে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ ওয়ালিদ বিন হাবিব বলেন,অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বা এ ধরনের কোনো অনিয়ম পেলে আইনগতভাবে যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।