এম জাফরান হারুন::
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া বন্দরের সুন্দরী সিনেমা হল সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাসিন্দারা সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ করে দেন। তবে প্রায় আধা ঘণ্টা পর কাজটি আবার শুরু হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালাইয়া বন্দরের ল্যাংড়া মুন্সীর পোল থেকে পূর্ব দিকে সুন্দরী সিনেমা হলের সামনের ৯৮ মিটার দীর্ঘ আরসিসি সড়কের নির্মাণকাজ চলছিল। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, কাজে নিম্নমানের বালু ব্যবহার করা হচ্ছে এবং দরপত্রে উল্লেখিত মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না।
অভিযোগকারীদের দাবি, সড়কের ঢালাইয়ের পুরুত্ব ও প্রস্থ নির্ধারিত মান অনুযায়ী করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে তারা নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরে স্থানীয়দের একাংশ কাজ বন্ধ করে দেন। কিন্তু তা আবার অলৌকিক ভাবে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রিয়াজ পঞ্চায়েত বলেন, “নির্মাণকাজে ব্যবহৃত উপকরণ ও কাজের মান নিয়ে আমাদের আপত্তি ছিল। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হলেও আমরা সন্তোষজনক জবাব পাইনি।”
আরেক বাসিন্দা মো. মনজু বলেন, “দরপত্র অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আমরা কাজের শিডিউল দেখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তা দেখানো হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।”
নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, “নির্মাণকাজের শিডিউল আমাদের কার্যালয়ে রয়েছে। কাজের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না।”
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজ তদারকিকারী উত্তম বলেন, “আমি শ্রমিকদের মাধ্যমে কাজ পরিচালনা করি। নির্মাণসামগ্রী সরবরাহের বিষয়টি ঠিকাদার দেখেন।”
এবিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কহিনুর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. রাশেদুল ইসলাম সরাসরি বক্তব্য দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
পটুয়াখালী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামিল আক্তার লিমন বলেন, “সড়কের নির্মাণকাজ অনুমোদিত নকশা ও শিডিউল অনুযায়ী হবে। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯৮ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৮ ফুট প্রস্থের আরসিসি সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে।


