এম জাফরান হারুন::
পটুয়াখালীর বাউফলে মাদকের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। শুক্রবার (১৭ জুলাই-২৬) বিকেলে বাউফল পৌর শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। এতে বিশেষভাবে প্রচার করা হয়— মাদক কেনাবেচা, সরবরাহ ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের এই কঠোর অবস্থানের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এ উদ্যোগ নেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সামুয়েল আহমেদ লেনিন।
প্রচারণায় বলা হয়, “মাদক কেনাবেচা, সরবরাহ, বিজ্ঞাপন, মধ্যস্থতা বা লেনদেনের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল-২০২৬ পাস হয়েছে।” এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয়রা মনে করছেন, মাদকের ভয়াবহতা রোধে এটি সরকারের একটি সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপ।
নিজের এই উদ্যোগ সম্পর্কে সামুয়েল আহমেদ লেনিন বলেন, “মাদকের আগ্রাসন আজ ঘরে ঘরে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে সাহসী আইন পাস করেছেন, তা সাধারণ মানুষের জানা প্রয়োজন। আমি রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নয়, বরং মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই এই প্রচারণা চালিয়েছি। মানুষ সচেতন হলে মাদকের ভয়াবহতা কমবে, আর শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার প্রয়োজনও পড়বে না।
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও। বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমদ বলেন, “এটি নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে যার যার অবস্থান থেকে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হলে আমরা দ্রুতই একটি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।”
ইঞ্জিনিয়ার ফারুক আহমেদ তালুকদার ডিগ্রি কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অহিদুজ্জামান (সুপন)ববলেন, “নিঃসন্দেহে এটি একটি ভালো উদ্যোগ। আমি এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। সমাজের সচেতন নাগরিকদের উচিত এটিকে একটি গণসচেতনতামূলক আন্দোলনে পরিণত করা। যত বেশি মানুষের কাছে মাদকের ভয়াবহতা ও এর সর্বোচ্চ শাস্তির বিষয়টি পৌঁছে দেওয়া যাবে, তত বেশি মানুষ মাদক থেকে দূরে সরে যাবে।
এদিকে এ উদ্যোগ কে স্বাগত জানিয়ে বাউফল সাংবাদিক ক্লাব এর সভাপতি শেখ মোঃ জাফরান আল হারুন (এম জাফরান হারুন) বলেন- সরকারের এই দুঃসাহসিক আইন পাসকে সাধারণ মানুষের মাঝে মাইকিংয়ের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন বিএনপি নেতা সামুয়েল আহমেদ লেলিন তাকে বাউফল সাংবাদিক ক্লাব এর পক্ষ থেকে আন্তুরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। পাশাপাশি এই ভাবে এমন প্রচার সর্বজায়গায় ছড়িয়ে পড়ুক এবং ছড়িয়ে দিক এটাই কামনা। প্রশাসনের পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে আমাদেরও সজাগ সচেতনতা বাড়াতে হবে।
বাউফল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, “জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। গতকালের মাইকিং প্রচারণাটি ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী। যারা মাদকবিরোধী সচেতনতায় কাজ করছেন, তাদের এমন উদ্যোগ সত্যিই অনুসরণযোগ্য।” তিনি আরও বলেন, “বাউফল থানা মাদক নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট কাজ করছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে বাউফল থানা বদ্ধপরিকর।”
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিকভাবেও যদি মাদকের কুফল ও কঠোর শাস্তির বার্তা মানুষের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে তরুণ প্রজন্ম মাদক থেকে দূরে থাকবে এবং একটি সুন্দর, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে


