ঢাকাWednesday , 3 June 2026
  1. @লিড
  2. *খুলনা বিভাগ
  3. *ঢাকা বিভাগ
  4. অপরাধ
  5. অর্থনীতি
  6. আইন-আদালত
  7. আজকের-সর্বশেষ
  8. আন্তর্জাতিক
  9. কলাম
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খেলাধুলা
  12. গণমাধ্যম
  13. চট্টগ্রাম বিভাগ
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয়
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত ধ্বংসের মুখে: অবহেলা, অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডে হারাচ্ছে সৈকতের বেলাভূমি

Link Copied!

৯৬

এম জাফরান হারুন:

বাংলাদেশের অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত আজ নানা সংকটে জর্জরিত। একদিকে উপকূলীয় ভাঙন, অন্যদিকে কিছু অসচেতন মানুষের অবহেলা, দখল ও পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের কারণে দিন দিন সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে সৈকতের বেলাভূমি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সৈকত রক্ষায় বিভিন্ন সময় প্রকল্প ও বরাদ্দের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে টেকসই ও দৃশ্যমান উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কুয়াকাটার উপকূল দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, জলোচ্ছ্বাস, উচ্চ জোয়ার এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সৈকতের বিভিন্ন অংশে ভূমিক্ষয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে পর্যটননির্ভর এ অঞ্চলের পরিবেশ ও অর্থনীতি উভয়ই হুমকির মুখে পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সৈকতের বিভিন্ন এলাকায় ময়লা-আবর্জনা ফেলা,গাছপালা ধ্বংস এবং পরিবেশের প্রতি উদাসীনতার কারণে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এসব কারণে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য।

পর্যটননির্ভর এ অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল মনে করেন, কুয়াকাটাকে রক্ষা করতে হলে শুধু প্রকল্প গ্রহণ নয়, বরং কার্যকর বাস্তবায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কুয়াকাটার অপার সৌন্দর্য কেবল স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে যেতে পারে।

কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান হাওলাদার বলেন, কুয়াকাটা শুধু একটি সমুদ্র সৈকত নয়, এটি দেশের পর্যটন শিল্পের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। মাননীয় সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন কুয়াকাটার উন্নয়ন, সৈকত সংরক্ষণ, পরিবেশ রক্ষা এবং পর্যটন শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করতে ইতোমধ্যে বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন। উপকূলীয় ভাঙন প্রতিরোধ, অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটকদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠন এবং পর্যটকদেরও সচেতন হতে হবে। কুয়াকাটার পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই কুয়াকাটাকে আরও পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, আধুনিক ও আকর্ষণীয় পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়িত হলে কুয়াকাটা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নেবে এবং পর্যটকদের কাছে একটি বিশ্বমানের সমুদ্রসৈকত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

প্রশ্ন এখন একটাই— কুয়াকাটার প্রকৃত অভিভাবক কে? প্রকৃতি, মানুষ ও পর্যটনের এই অনন্য সম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে কুয়াকাটাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।