এইচ এম হাছনাইন, ভোলা প্রতিনিধি
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা-এর চাঁচড়া ইউনিয়ন-এ মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মাওলানা শোয়াইব আহমেদ ফরিদ। তাঁর উদ্যোগে মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে গৃহহীন ৬০টি পরিবার পেয়েছে নতুন ঘর। অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এই উদ্যোগে এলাকাজুড়ে চলছে ব্যাপক প্রশংসা।
চাঁচড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে খোলা আকাশের নিচে, জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরে কিংবা ভাঙাচোরা বসতিতে মানবেতর জীবনযাপন করছিল বহু নিম্নআয়ের পরিবার। বিষয়টি নজরে আসার পর মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে এগিয়ে আসেন মাওলানা শোয়াইব আহমেদ ফরিদ।
নিজ উদ্যোগে তহবিল সংগ্রহ, সমাজের বিত্তবান ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা এবং সার্বিক তদারকির মাধ্যমে শুরু হয় ঘর নির্মাণ কার্যক্রম। ধাপে ধাপে গত তিন মাসে সম্পন্ন হয় ৬০টি পরিবারের নতুন ঘর নির্মাণ।
প্রতিটি ঘরে থাকার কক্ষ, রান্নার ব্যবস্থা এবং নিরাপদ টিনশেড ছাদ নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে পরিবারগুলো নিরাপদ ও স্বস্তিতে বসবাস করতে পারে।
নতুন ঘর পাওয়া একাধিক পরিবার আবেগাপ্লুত হয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উপকৃত পরিবারগুলোর মুখে স্বস্তির হাসি ফুটেছে।
চাঁচড়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, “বর্ষাকালে ঘরে পানি পড়তো, ঝড় এলে খুব ভয় লাগতো। রাতে ঘুমাতে পারতাম না। হুজুর আমাদের জন্য নতুন ঘর বানিয়ে দিয়েছেন। এখন অনেক শান্তিতে আছি। আল্লাহ উনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। অনেকেই জানান, দীর্ঘদিন পর তারা নিরাপদ আশ্রয়ের স্বপ্ন পূরণ হতে দেখেছেন।”
মাওলানা শোয়াইব আহমেদ ফরিদের এই মানবিক উদ্যোগ শুধু ঘর নির্মাণেই সীমাবদ্ধ নয়; অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক সহযোগিতা এবং মানবিক কার্যক্রমেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, তাঁর মতো মানুষ সমাজে থাকলে গরিব ও অসহায় মানুষের ভরসা বাড়ে।
চাঁচড়া ইউনিয়নের এক বাসিন্দা বলেন, “ মাওলানা শোয়াইব হুজুর নিজে দাঁড়িয়ে থেকে প্রতিটি কাজ তদারকি করেছেন। মানুষের কষ্ট দেখে তিনি যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। আমরা তাকে নিয়ে গর্বিত।”
এ বিষয়ে মাওলানা শোয়াইব আহমেদ ফরিদ বলেন, “মানুষ মানুষের জন্য। আল্লাহ আমাকে যে সামান্য সামর্থ্য দিয়েছেন, তা দিয়ে চেষ্টা করেছি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে। এই কাজ একা আমার নয়, এলাকার অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী ও মানবিক মানুষ সহযোগিতা করেছেন। আমার স্বপ্ন—চাঁচড়া ইউনিয়নে একজন মানুষও যেন গৃহহীন না থাকে। গত কয়েকদিন পূর্বে আমি সাছড়াই ইউনিয়নে এই সর্বপ্রথম একটি গরু ছাগলের হাট আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মাইকিং প্রচার, প্যান্ডেলসহ সমস্ত কাজ শেষ করেছিলাম। এই হাট আনার কারণে মানুষের উৎসাহ, উদ্দীপনা ও আনন্দ উল্লাস ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় আমার এই হাটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমি চাঁচড়া ইউনিয়নবাসীর জন্য সামনে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প হাতে নিচ্ছি। আমি মানুষের কল্যাণে কাজ করে বেঁচে থাকতে চাই।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর তজুমদ্দিন উপজেলা শাখার সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং আসন্ন ০৪নং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবেও অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, তাঁর মতো মানবিক উদ্যোগ সমাজের অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সংস্কৃতি আরও বিস্তৃত হবে।


